জাপানে চিকিৎসক হিসাবে ক্যারিয়ার গঠন এবং মেক্সট স্কলারশিপ পাওয়ার প্রক্রিয়া

ঘাসফুল
ছবি কৃতজ্ঞতা: নুর কেয়াত (Nur Kayat)

জাপানে চিকিৎসক পেশায় কাজের সুযোগ কেমন?

বাংলাদেশে যে সকল শিক্ষার্থী বর্তমানে চিকিৎসক পেশায় আছেন এবং এই সময়ে জাপানে উচ্চ শিক্ষায় আসতে চান তাদের জন্য এই পোস্ট। প্রথমেই বলে নেই, জাপানে ডাক্তার প্রফেশন এ যাওয়া খুব কঠিন। কারন জাপানিজরা তাদের নিজস্ব ভাষা জাপানীজে পড়াশুনা করে MBBS পাশ করে। তাদের সকল ডকুমেন্ট, বই জাপানিজ ভাষায় লেখায়। কাজেই আপনাকে ডাক্তার হিসাবে কাজ করতে চাইলে আপনাকে স্থানীয় residence examination pass করতে হবে। এই পরীক্ষা হয় জাপানিজ ভাষায়। কাজেই আপনার জাপানিজ দক্ষতা অনেক ভালো না হলে, পাশ করা প্রায় অসম্ভব। 

কাজেই ডাক্তারদের জন্য জাপানে তুলনামূলকভাবে সহজতর উপায় হচ্ছে একাডেমিয়াতে গবেষক হিসেবে কাজ করা কিম্বা মেডিসিন ইন্ডাস্ট্রিতে (কোম্পানিতে) কাজ করা। গবেষক হিসেবে কাজ দুই ভাবে করতে পারেন-
১) রিসার্স ইন্সটিটিউটগুলোতে গবেষক হিসেবে কাজ করা,
২) বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতা করা।

অন্যদিকে মেডিসিন ইন্ডাস্ট্রিতে (কোম্পানিতে) দুই ভাবে কাজ করতে পারেন-
১) কোম্পানীর রিসার্স সেকশনে (R&D) তে গবেষক হিসেবে কাজ করা,
২) কোপানীতে অন্যান্য কাজ করা।

জাপানে মাস্টার্স / পি.এইচ.ডি তে কিভাবে আসবেন?

আপনি যদি জাপানে মাস্টার্স বা পিএইচডি লেভেলে পড়াশুনা করতে আসতে চান, তাহলে নীচের এই ধাপগুলো অনুসরণ করতে পারেন-
১) IELTS Test Score: Ielts দেয়া না থাকলে প্রথমেই দিয়ে নেন। জাপানের বেশিরভাগ ইউনিভার্সিটির requirement 6.5, each band e minimum 6. তবে যত বেশি স্কোর তত ভাল।
২) পাব্লিকেশন থাকলে ভালো। কারন সবাই এখন বিদেশমুখী। বেপারটা এখন অনেক competitive. পাব্লিকেশন না থাকলে আপনি অনেকটাই পিছিয়ে পড়বেন।
৩) প্রফেসর ম্যানেজ: এটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশ। আপনার প্রফেসর ম্যানেজ হলে বাকি কাজ টা সহজ বলা যায়।

আবেদনের/ইমেইলের সময়:

জাপানে বছরে ২টা সেশন। প্রথমটা এপ্রিল সেশন, পরেরটা অক্টোবর সেশন। আপনি যে কোন সেশনেই মেক্সট স্কলারশিপ নিয়ে আসতে পারেন। আপনি যে সেশনে আসতে চান, সাধারণত তার ১ বছর পূর্বে প্রফেসরদেরকে ইমেইল করা শুরু করতে হবে। কাজেই আপনি যদি ২০২২ সালের এপ্রিল-মে মাসে প্রফেসরদের ইমেইল করেন, তাহলে ২০২৩ সালের এপ্রিল সেশনে আপনি আসতে পারবেন। অন্যদিকে ২০২২ সালের অক্টোবর-নভেম্বর মাসে ইমেইল শুরু করেন, তাহলে ২০২৩ সালের অক্টোবর সেশনে আসতে পারবেন। কাজেই সারমর্ম হচ্ছে-
১) এপ্রিল – মে এবং
২) অক্টোবর-নভেম্বর
মাসে প্রফেসরদের মেইল করতে হবে। আর প্রসেফরদের ইমেইল করার সবচেয়ে ভালো সময় হচ্ছে বাংলাদেশের ভোরের (৫টা থেকে ৬টার) দিকে।

কিভাবে প্রফেসর খুঁজে পাবেনঃ

আপনি গুগলে সার্চ করে ইউনিভার্সিটির নাম, এবং কাংখিত Department খুঁজে বের করবেন। সেই Department এর প্রফেসর দের লিস্ট আপনি গুগলেই পাবেন। অনেক প্রফেসর দের মেইলিং এড্রেস প্রফেসরের নাম লিখে সার্চ দিলেই পাবেন। অনেক প্রফেসরের টা পাবেন না, সেক্ষেত্রে সেই প্রফেসরের কি কি জার্নাল পেপার আছে, সেগুলা পড়তে হবে। জার্নাল পেপার এর নিচে অনেক সময় ইমেইল আড্রেস দেওয়া থাকে। মেইলের মাধ্যমে জানাবেন যে আপনি তার আন্ডারে পি. এইচ. ডি/ মাস্টার্স করতে ইচ্ছুক। সাথে আপনার সিভি দিবেন। তবে বাংলাদেশের MBBS, মাস্টার্স এর সমমানের ধরা হয়, চাইলে আপনি একবারেই Ph.D. এর জন্য আসতে পারবেন। প্রফেসর ম্যানেজ হলে বাকি কাজ কিভাবে কি হবে সেটা প্রফেসর ই ইন্সট্রাকশন দিবে। এক এক ইউনিভার্সিটির ভর্তির নিয়ম এক এক রকম। 

জাপানে পড়াশুনার জন্য স্কলারশিপ এবং অন্যান্যঃ

যদি স্কলারশিপ পেতে চান, তবে প্রফেসর রাজি হওয়ার পর আপনাকে জানাতে হবে। জাপানের সবচেয়ে সম্মানীয় শিক্ষাবৃত্তি (scholarship) হলো MEXT scholarship. প্রফেসর আপনাকে রিকমেন্ড করলে আপনি ইউনিভার্সিটি রিকমেন্ডেশন MEXT পাবেন। একটা ব্যাপার বলে রাখি, জাপানে থাকা অবস্থায় MEXT এর জন্য apply করা যায় না। আপনাকে অবশ্যই বাংলাদেশ থেকেই apply করতে হবে। এছাড়াও ইউনিভার্সিটির অন্যান্য ছোট ছোট অনেক ধরনের scholarship আছে। সেগুলার জন্যও প্রফেসর এর রিকমেন্ডেশন লাগবে। তবে সেগুলার জন্য apply করতে হলে আগে আপনাকে ইউনিভার্সিটিতে ভর্তি হতে হবে।

আপনার যদি আরো কোন তথ্য জানার থাকে, কমেন্ট করে জানাতে পারেন।

লেখক সম্পর্কে:
Farzana Sultana, MD
PhD. Student,
Department of Molecular Immunology,
Tokyo Medical and Dental University (TMDU), Tokyo, Japan.

Share on email
Email
Share on facebook
Facebook
Share on twitter
Twitter
Share on linkedin
LinkedIn

Related Posts

Leave a Reply

Your email address will not be published.

Popular Post

Recent Comments